ফরজ নামাজের পরে তাসবিহ\ওযীফা কখন পড়া উচিত?
প্রশ্নঃ ১২৬৩৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ফরজ নামাজ আদায় এর পর আয়াতুল কুরসী হাশরের তিন আয়াত তিন কুল তাসবি এই আমলগুলো করবো ? নাকি সুন্নাত নামাজ আদায় করে আমলগুলো করবো?
১৬ নভেম্বর, ২০২৫
আদিতমারী
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ফরজ নামাযের পরের আমলগুলো সুন্নতের আগে ও পরে উভয় ভাবেই পড়া জায়েজ।
* তবে উত্তম হলো,
যে সকল ফরজ নামাযের পরে সুন্নত রয়েছে ঐ সকল সুন্নত নামায এবং ফরজ নামাযের মাঝখানে দীর্ঘ সময় যিকির-আযকার অথবা অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তার মাধ্যমে দুই নামায অর্থাৎ ফরজ এবং সুন্নতের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি না করা।
* যদি নামাযের পরে লম্বা কোন মা'মুলাত অথবা কোন যিকির-আযকার থাকে, তাহলে সেটা সুন্নত নামায আদায় করার পরে পড়া উচিত। তবে ربنا آتنا في الدنيا حسنة এই ধরনের অন্যান্য সংক্ষিপ্ত দু'আ ফরজ নামাযের পরে সুন্নত আদায়ের পূর্বে পড়া যেতে পারে।
* হাদীস শরিফে বর্ণিত হয়েছে,
تعجلوا الركعتين بعد المغرب فإنهما ترفعان مع المكتوبة.
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় হযরত আল্লামা কুতুবুদ্দিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার কিতাব “মাজহারুল হক” এর মধ্যে লিখেছেন,
"হাদীসের উদ্দেশ্য এই যে, যেহেতু এই দুই রাকাত ফরজ নামাযের সাথে “ইল্লিয়্যিনে” নিয়ে যাওয়া হয়, তাই ফরজ নামাযের পরে সুন্নত নামাযকে খুব বেশি বিলম্ব না করা, যাতে আমলকে “ইল্লিয়্যিনে” নিয়ে যাওয়া ফেরেশতাদের অপেক্ষা না করতে হয়।
* এটা স্পষ্ট যে, ফরজ নামাযের পর যেসব যিকির-আযকার পাঠ করার কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সুন্নত নামাযের পরে পড়লেও হাদীসের নির্দেশের বিরোধী হবে না।
অন্যভাবে বলা যায়, হাদীসে ফরজ নামাযের পরপরই যেসব যিকির-আযকার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো যদি সুন্নত আদায় করে এরপর পাঠ করা হয়, তাহলেও হাদীসে বর্ণিত ফযীলত লাভ হবে। কারণ, সুন্নত আদায় করতে যতটুকু সময় বিলম্ব হয়, সেটিকে এমন দীর্ঘ বিলম্ব হিসেবে গণ্য করা হবে না, যার কারণে ফরজ নামাযের পরপর যিকির-আযকার করার ফযীলত নষ্ট হয়ে যায়। বরং এটাকেও ফরজ নামাযের পরপরই যিকির-আযকার পাঠ করা হিসেবে ধর্তব্য করা হবে।
(মাযহারুল হক, নামাযের অধ্যায়)
(فتاویٰ شامی, كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة، ج:1، ص:530، ط: سعيد)
"ويكره تأخير السنة إلا بقدر اللهم أنت السلام...
(قوله إلا بقدر اللهم إلخ) لما رواه مسلم والترمذي عن عائشة قالت «كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لا يقعد إلا بمقدار ما يقول: اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام» وأما ما ورد من الأحاديث في الأذكار عقيب الصلاة فلا دلالة فيه على الإتيان بها قبل السنة، بل يحمل على الإتيان بها بعدها؛لأن السنة من لواحق الفريضة وتوابعها ومكملاتها فلم تكن أجنبية عنها، فما يفعل بعدها يطلق عليه أنه عقيب الفريضة."
وفیہ ایضاً (كتاب الحظر والإباحة، ج:6، ص:423، ط: سعيد):
"وتقدم في الصلاة أن قراءة آية الكرسي والمعوذات والتسبيحات مستحبة وأنه يكره تأخير السنة إلا بقدر اللهم أنت السلام إلخ (قوله قال أستاذنا) هو البديع شيخ صاحب المجتبى واختار الإمام جلال الدين إن كانت الصلاة بعدها سنة يكره وإلا فلا."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১